প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
সারাদেশ

পীরগঞ্জে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Sep 24, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 12:08 PM
পীরগঞ্জে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় অনিয়মের অভিযোগ

নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও সংক্রান্ত কাগজপত্রে কারসাজি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেলের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগের তদন্ত করে নিয়মবহির্ভাবে নেওয়া সরকারি অর্থ ফেরত এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দীন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান কবির বকুল ১৯৯৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন তিনি বিএড স্কেল গ্রহণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও শাহজাহান কবির তার প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেলের কোড সংযোজন করেন। এরপর তিনি ২০০৫ সাল থেকেই টাইম স্কেল এবং পরবর্তীতে উচ্চতর স্কেলের সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এতে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, এমপিও সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটির দুজন সদস্য দাবি করেছেন, শাহজাহান কবিরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত নন। এ-সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশনেও তারা স্বাক্ষর করেননি বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় বৈধ সিদ্ধান্ত ও কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতি ছাড়া কীভাবে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা।অভিযোগকারীরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এমপিও সংক্রান্ত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত আনা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া দায়িত্ব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাহান কবির বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ